AK-47

by
Mar 26, 2015
73 Views
Comments Off on AK-47
0 0

AK-47 (Avtomat Kalashnikova – 47) এর নাম শুনেনি বা দেখেনি এমন লোক পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

সারা পৃথিবীর বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই AK-47 এর আবিস্কর্তা হলেন তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের মিখাইল কালাশনিকভ!

মিখাইল কালশনিকভ ১৯১৯ সালের ১০ নভেম্বর পশ্চিম সাইবেরিয়ায় একজন সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম – টিমোফে কালাশনিকভ ও মাতার নাম আলেকজান্দ্রা কালাশনিকভ। কিশোর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। রাইফেলের মত আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করলেও আজীবন তিনি কবিতার সাধনা করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই নিত্য নতুন উদ্ভাবনের দিকে ঝোক ছিল তাঁর। কিশোর বয়সেই প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন সেনাবাহীনিতে যোগ দিয়ে। ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে সেনা বাহিনীতে তরুণ উদ্ভাবকের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। যে হাতে লেখা হয়েছিল শান্তির কবিতা সেই একই হাতে তৈ্রী করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র “AK-47″। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি Battle of Bryansk যুদ্ধে আহত হন। নাৎসি বাহীনির হাতে নিজেদের সৈ্নিক অধিক বেশি নিহত হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি এমন একটি অটোমেটিক রাইফেল নকশা করেছিলেন, যা সব পরিস্থিতিতে টেকসই হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে বিধ্বংসী।

প্রায় সাত বছর পর অনেক পরিশ্রমে তিনি তৈ্রী করেন AK-47। তার নামেই এই আগ্নেয়াস্ত্রের নামকরণ করা হয় রাশিয়ান “এভটোমেট কালাশনিকোভা – 47” নামে।
১৯৪৭-১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে তিনটি প্রতিদ্বন্দী নকশার বন্দুককে একত্রে পরীক্ষা করা হয়। এতে ছিল AD-410 , A.B. -47 ও AK-47 . A.B. -47 এর লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা AK- 47 এর তুলনায় বেশি হলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে কে তাদের পছন্দের রাইফেল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৪৮ এর মাঝামাঝিতে “ইউমাশা” কারখানায় এর উৎপাদন শুরু হয় যা আজ অব্দি পর্যন্ত পৃথিবী বহু দেশে চলছে।

এই রাইফেল আবিস্কারের জন্য কালাশনিকভ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন “রায়” সম্মান পান। এর মত ভয়ংকর অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে দেখে দুঃখ পেয়ে তিনি বলেছিলেন,
”আমার তৈরি  অস্ত্র দিয়ে যখন সন্ত্রাসীদের গুলি চালাতে দেখি , তখন ভীষন কষ্ট পাই।”
২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান কালাশনিকভ। ৯৪ বছর বয়সে রাশিয়ায় উদমুরত প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ইজহভস্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্ব বিখ্যাত আগ্নেয়াস্ত্রের নকশাবিদ।

images

 

AK-47 সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

প্রকৃতি – অ্যাসাল্ট রাইফেল
উৎপত্তিস্থল – সোভিয়েত ইউনিয়ন
নকশাকার – মিখাইল কালাশনিকভ
প্রস্তুতকারক – ইসহমাস
ওজন – ৪.৭৫ কেজি
দৈর্ঘ্য – ৩৫ – ২৫ ইঞ্ছি
কার্তুজ – ৭.৬২ X ৩৯ মি।মি
অপারেটিং মেথড – গ্যাস দ্বারা পরিচালিত
গুলির বেগ – ৭১৫ মিটার /মিনিট
রেঞ্জ – ৩৫০ মিটার
গুলি ধারণ ক্ষমতা – ৩০ , ৭৫ ও ১০০ টি (Ammo সাইজ অনুসারে )

AK-47 এর আরো কিছু বিশেষত্বঃ

১। রাইফেলটিতে মাত্র আটটি অংশ মুভ করা যায় । এই রাইফেলের অংশগুলো খুলে মাত্র ৩০ সেকেন্ড এ তা আবার জোড়া লাগানো যায়।
২। মোজাম্বিকের জাতীয় পতাকায় দেশটির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এই রাইফেল।
৩। জনপ্রিয়তার জন্য এই রাইফেল “গিনেস বুক অফ অয়ার্ল্ড রেকর্ডস” এ জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বে এই অস্ত্র ১৫ কোটির চেয়েও বেশি রয়েছে।

Article Tags:
Article Categories:
বিজ্ঞান