চার্লি চ্যাপলিন

by
Mar 26, 2015
278 Views
Comments Off on চার্লি চ্যাপলিন
0 0

ছবিটির দিকে তাকান তো চিনতে পারেন কিনা কে এই লোক?

তিনি হলেন আমার আপনার পুরো বিশ্বে সবার প্রিয় – “স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন জুনিয়র” যিনি শুধুমাত্র নির্বাক চলচ্চিত্র দিয়েই পৃথিবীকে হাসাতে পেরেছিলেন। একের পর এক সুপার কমেডি ফিল্ম উপহার দিয়ে তিনি হয়েছিলেন হাসির আতঙ্ক!

পৃথিবীর চলচ্চিত্রের পর্দায় শ্রেষ্ঠতম এই মূকাভিনয় প্রতিভা “চার্লি চ্যাপলিন” সম্পর্কে জানতে চান?

সবশেষে পাবেন মজার ব্যক্তিত্ব “চার্লি চ্যাপলিন”-এর মজার কিছু তথ্য, তবে তা জানার আগে তার জীবন সম্পর্কে কিছু জেনে নিই।

জন্ম ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল, তবে তার জন্মস্থান কোথায় তা নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য কারও জানা নেই। ইন্টারনেটের যেখানেই খুঁজেন এই সঠিক উত্তর কখনো খুঁজে পাবেন না। কারণ বিভিন্ন মিডিয়া বিভিন্ন জায়গার কথা উল্লেখ করেছে! তবে তার চলচ্চিত্র জীবনের প্রথমদিকে চ্যাপলিন নিজে একবার বলেছেন যে, তিনি ফ্রান্সের ফঁতেউব্ল শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয় আজকে “চার্লি চ্যাপলিন” নামে যাকে আমরা চিনি তার নাম নিয়েও রয়েছে ঘন কুয়াশা। যুক্তরাজ্যের জাতীয় আর্কাইভ থেকে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, চার্লি চ্যাপলিনের আসল নাম হলো ইসরায়েল থর্নস্টেইন। চ্যাপলিন তার ছদ্মনাম। (তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা চ্যাপলিনের ছদ্মনাম নিয়ে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি) চ্যাপলিনের জন্মের দুই বছরের মাথায় তার বাবা-মা’র মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়৷ চার্লি চ্যাপলিনের পিতার নাম চালর্স চ্যাপলিন। তিনি মারা গিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ বছর বয়সে। তার মায়ের নাম ছিল হান্নাহ। তিনি একের পর এক মোট চার জন মহিলাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে জীবনে টেনে নিয়েছেন। প্রথম তিন জনের সাথে হয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ। শেষ স্ত্রী উনা’ই চার্লিকে মনে প্রাণে ভালবেসেছিলেন। তাই শেষ বয়সে চার্লি দুঃখ করে বলেছিলেন, “আমার জীবনে আরো কয়েক বছর আগে উনা আসেনি কেন?”

চার্লি চ্যাপলিন

কীভাবে অভিনয় জীবনের শুরু?

চার্লি চ্যাপলিনের মা থিয়েটারে কাজ করতেন। চ্যাপলিনের বয়স তখন পাঁচ বছর। একদিন তার মা মঞ্চে গান গাইছিলেন। আর ছোট্ট চ্যাপলিন বসে বসে মায়ের অভিনীত গীতনাট্য দেখছিলেন। সে সময় লন্ডনের খেটে খাওয়া শ্রমিক, ভবঘুরে কিংবা নেশাতুর পাবলিকরাই বিনোদনের জন্য থিয়েটারে ভিড় জমাতো। মঞ্চে গায়িকা বা নর্তকীর হেরফের হলেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে থিয়েটার মাথায় তুলে নিতো। মঞ্চে গান গাইছিলেন চ্যাপলিনের মা হানা চ্যাপলিন। চ্যাপলিনের মায়ের গলায় আগে থেকেই সমস্যা ছিল। গান গাওয়ার এক পর্যায়ে চ্যাপলিনের মায়ের গলার স্বর ভেঙ্গে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। কিন্তু মঞ্চ ভর্তি দর্শককে বুঝ দেওয়ার জন্য মায়ের জায়গায় চ্যাপলিনকে মঞ্চে ওঠানো হয়।

চার্লির প্রথম কৌতুক অভিনয় কোনটি? নিচে পড়ে নিন –

চার্লি তার মায়ের পরিবর্তে স্টেজে গান গাইতে শুরু করেন, “Jack Jones well and known to every body”। তার গানে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে স্টেজে কয়েন ছুঁড়তে থাকে। চাপলিন হঠাৎ অঙ্গভঙ্গিসহ বলে ওঠেন, “আমি এখন গান গাইব না; আগে পয়সাগুলো কুড়িয়ে নিই, তারপর আবার গাইবো”। এটি ছিল দর্শকের হাসির জন্য চার্লির প্রথম কৌতুকাভিনয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মতো। যুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি বই লিখলেন, সিনেমা করলেন, বক্তৃতাও দিলেন। “The Great Dictator” মুভিটি যে দেখেছেন তিনিই মুগ্ধ হয়েছেন সেই জ্বালাময়ী বক্তৃতা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই থেকে তার সখ্যতা বাড়লো কমিউনিষ্টদের সাথে। তখন তিনি করেছিলেন সেই বিখ্যাত উক্তি, “মানুষকে ভালোবাসার জন্য যদি আমাকে কমিউনিষ্ট বলা হয়, তো আমি কমিউনিষ্ট”।

চার্লি চ্যাপলিনের জীবনের মজার একটি ঘটনা-

চার্লি চ্যাপলিন তখন পৃথিবী-বিখ্যাত। তার অনুকরণে অভিনয়ের একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গোপনে চার্লি চ্যাপলিন নাম দেন সেই প্রতিযোগিতায়। মজার বিষয় হলো প্রতিযোগিতা শেষে দেখা গেলো ১ম ও ২য় স্থান অর্জন অন্য দুজন প্রতিযোগী। চার্লি চ্যাপলিন হন তৃতীয়।

আসুন জেনে নিই এই বিশাল পাজি লোকটির গভীর কিছু উক্তিঃ

“My pain may be the reason for somebody’s laugh.
But my laugh must never be the reason for somebody’s pain”.

“Your naked body should only belong to those who fall in love with your naked soul”. (তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন)

“What do you want meaning for? Life is desire, not meaning”.

“I always like walking in the rain, so no one can see me crying”.

“You need Power,
only when you want
to do something harmful
otherwise
Love is enough to get everything done”.

“Like everyone else I am what I am: an individual, unique and different, with a lineal history of ancestral promptings and urging; a history of dreams, desires, and of special experiences, all of which I am the sum total”.

“I have many problems in my life. But my lips don’t know that . They always smile”.

“A day without a laughter is a day wasted”.

চ্যাপলিনের অনেকগুলো ছবির মধ্যে যেগুলো সেরা ধরা যায়ঃ
1. Modern Times (1936)
2. City Lights (1931)
3. The Great Dictator (1940)
4. The Gold Rush (1925)
5. The Kid (1921)
6. Limelight (1952)
7. The Immigrant (1917)
8. The Circus (1928)
9. Monsieur Verdoux (1947)
10. A Dog’s Life (1918)
এর বাইরে আরও মুভি থাকতে পারে।

১৯৬৪ সালে চার্লির আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় (My Autobiography)। বইটি সর্বকালের সেরা বেস্ট সেলার হিসেবে বিক্রি হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে “মূর্তি”।

এক নজড়ে চার্লি চ্যাপলিনঃ
পুরো নামঃ স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন
জন্মঃ ১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যুঃ ২৫ শে ডিসেম্বর, ১৯৭৭, ভিভে, সুইজারল্যান্ড
পেশাঃ অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও সংগীতশিল্পী
বাবাঃ চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন সিনিয়র
মাঃ হান্নাহ হেরিয়েট চ্যাপলিন
স্ত্রীঃ মিলড্রেড হ্যারিস (১৯১৮ – ২০), লিটা গ্রে (১৯২৪ – ২৭), পোলেট গোদা (১৯৩৬ – ৪২), উনা ও-নিল (১৯৪৩ – ৭৭)

Article Categories:
জীবনী