Freeze FBI !!!

by
Mar 26, 2015
65 Views
Comments Off on Freeze FBI !!!
0 0

উপরের বাক্যটি আমরা প্রায়ই হলিউড মুভিতে শুনতে পাই। হলিউড-এর নায়করা অত্যন্ত সফলতার সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত সমাধান করেন “FBI”-এর বিশেষ এজেন্ট হিসেবে!!!

“FBI”(এফবিআই)-এর পুরো অর্থ হলো Federal Bureau of Investigation (ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন)। এটি আমেরিকার অপরাধমূলক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা উভয় হিসেবে কাজ করে যা কিনা বিচার বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে এটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

১৯০৮ সালের ২৬ জুলাই “ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন”(বিওআই) নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট-এর মেয়াদকালে। কিন্তু ১৯৩৫ সালে নাম পরিবর্তন করে “এফবিআই” রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরণের অপরাধ নির্মূলের জন্য “এফবিআই”-এর মত সংস্থার প্রয়োজনীয়তা থেকেই মূলত “এফবিআই”-এর সৃষ্টি।

এফবিআই

“জন এডগার হুভার” ১৯২৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত “এফবিআই”-এর পরিচালক ছিলেন। তার নেতৃতেই “এফবিআই” গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩২ সালে। তার আমলে “এফবিআই” যেসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলো করেছিলো তাতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। “হুভার”-এর মৃত্যুর পর পরিচালকের মেয়াদ ১০ বছর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

১৯৩০ সালে “ক্রাইম যুদ্ধের” সময় এফবিআই এজেন্টরা প্রচুর সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার নাহয় হত্যা করে যারা অপহরণ, ডাকাতি, খুন প্রভৃতির সাথে জড়িত ছিলো। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জন ডিলিনজার, “বেবি ফেস” নেলসন, কেট “মা” বার্কার, এলভিন “ক্রীপি” কারপিস এবং জর্জ “মেশিন গান” কেলি।

১৯৪০ সালের শুরুর দিক থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত “এফবিআই” আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কেসগুলি তদন্ত করে। এর মাধ্যমে তারা অনেক গুপ্তচরকে ধরতে সক্ষম হয়েছিলো। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে “এফবিআই” নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারী নেতাদের সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। কারণ তারা ভেবেছিলো কমিউনিস্টদের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিলো বা তাদের দ্বারা তারা অসঙ্গতভাবে প্রভাবিত হতো। ১৯৬০ দশকের মধ্য সময়ে “মার্টিন লুথার কিং” প্রকাশ্যে “এফবিআই”-এর সমালোচনা করতেন এই বলে যে, তারা সন্ত্রাসবাদের দিকে অপর্যাপ্ত মনোযোগ দিতেন যেগুলো প্রধানত সাদা চামড়াদের দ্বারা বেশি সংগঠিত হতো। এর জবাবে “হুভার” প্রকাশ্যে “লুথার কিং”-কে আমেরিকার “কুখ্যাত মিত্যাবাদী” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৯৯১ সালে “ওয়াশিংটন পোস্ট”-এর সাংবাদিক “কার্ল রোয়ান” তার আত্মজীবনীতে দাবি করেন যে, “এফবিআই” বেশ কয়েকবার বেনামে “লুথার কিং”-কে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলো। “এফবিআই” আমেরিকার প্রেসিডেন্ট “জন এফ কেনেডি”-র হত্যাকাণ্ডের তদন্তটি হাতে নিয়েছিলো তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট “লিন্ডন বি. জনসন”-এর নির্দেশে। এর পরবর্তীতে কোন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার মৃত্যুর তদন্তগুলি “এফবিআই”-এর দ্বায়িত্বে যাওয়ার জন্যে একটি আইন কংগ্রেস-এ পাশ হয়।

১৯৮২ সালে “এফবিআই” একটি “এলিট টিম” গঠন করে যার উদ্দেশ্য ছিলো ১৯৮৪ লস এঞ্জেলেস-এ অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করা। ১৯৯৮ সালের দিকে “এফবিআই” প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে যেটি কিনা ১৯৯১ সালে CART (সিএআরটি) টিম গঠন দিয়ে সূচিত হয়েছিলো। CART এর মানে হলো Computer Analysis and Response Team.

২০০১ সালের ফেরুয়ারীতে “রবার্ট হেনসেন” রাশিয়াতে তথ্য বিক্রির দ্বায়ে ধরা পড়েন। ১৯৭৯ সালে থেকে তিনি এভাবে তথ্য বিক্রি করে আসতেছিলেন যিনি কিনা “এফবিআই”-এ উচ্চ পর্যায়ে ছিলেন। অনেকের দাবী ছিলো যে, “হেনসেন” ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার জন্যে তথ্য পাচারে অবদান রেখেছিলেন।

“এফবিআই”-এর শাখাগুলি হচ্ছেঃ

১। এফবিআই ক্রিমিনাল, সাইবার, রেসপন্স ও সার্ভিস ব্রাঞ্চ।

২। এফবিআই হিউম্যান রিসোর্স ব্রাঞ্চ।

৩। এফবিআই ইনফর্মেশন ও টেকনোলজি ব্রাঞ্চ।

৪। এফবিআই ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ।

৫। এফবিআই সায়েন্স ও টেকনোলজি ব্রাঞ্চ।

৬। এফবিআই ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ।

“এফবিআই”-এর এজেন্ট হওয়ার জন্য অবশ্যই আমেরিকার নাগরিক হওয়া লাগে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। “এফবিআই”-এর বিশেষ এজেন্টরা Glock 22 বা Glock 23 মডেলের 40S&W ওয়াট ক্ষমতার পিস্তল ব্যবহার করেন। ২০১২ অর্থবছরে এফবিআই-এর বার্ষিক বাজেট ছিলো ৮.১২ মিলিয়ন ডলার।

এফবিআই গান এবং ব্যাজ

 “এফবিআই”-এর প্রধান লক্ষ্য হলো আমেরিকাকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করা, সন্ত্রাস বিরোধী আইনগুলি বলবৎ ও কার্যকর রাখা এবং কেন্দ্রীয়, রাজ্য, নগর, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অংশীদারদেরকে যথাযত নেতৃত্ব ও ফৌজদারি বিচার সেবা প্রদান করা।

বর্তমান সময়ে “এফবিআই”-এর শীর্ষ অনুসন্ধানী অগ্রাধিকারগুলি হলোঃ

১। আমেরিকাকে সন্ত্রাসী আক্রমন থেকে রক্ষা করা।

২। আমেরিকাকে বিদেশী গোয়েন্দার অপারেশন ও গুপ্তচরবৃতি থেকে রক্ষা করা।

৩। আমেরিকাকে আমেরিকার বিরুদ্ধে সাইবার ভিত্তিক আক্রমণ ও উচ্চ-প্রযুক্তির সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করা।

৪। সবধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোকাবেলা করা।

৫। নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।

৬। ক্রান্তিকালীন/জাতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ও উদ্যোগগুলো মোকাবেলা করা।

৭। “হোয়াইট কলার” অপরাধগুলো মোকাবেলা করা।

৮। উল্লেখযোগ্য সহিংস অপরাধগুলো মোকাবেলা করা।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এফবিআই ওয়েবসাইট।

Article Tags:
·
Article Categories:
বিবিধ