অদ্বিতীয় কোকা-কোলা (Coca-Cola)

by
Apr 26, 2015
238 Views
Comments Off on অদ্বিতীয় কোকা-কোলা (Coca-Cola)
0 0

কোকা-কোলা (ইংরেজী – Coca-Cola), একটি কার্বোনেটেড কোমল পানীয়। এটি নিঃসন্দেহে অনেকের কাছে একটি প্রিয় পানীয়ের নাম। আপনি যদি কোকা-কোলা নিয়মিত পান করে থাকেন কিন্তু কোকা-কোলার ইতিহাস সম্পর্কে না জানেন তবে কেমন হয়! আপনি কী জানেন, বর্তমানে সুন্দর ও আকর্ষণীয় বোতলের ভেতর যে পানীয় আপনি দেখতে পান একদম শুরুর দিকে এর চেহারা কিন্তু এমন ছিল না। তাহলে কেমন ছিল? চলুন তাহলে জেনে নিই আমার আপনার প্রিয় কোকা-কোলা পানীয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

প্রথমেই বলি এই বিখ্যাত বেভারেজ ড্রিংকটি কার হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায়। তিনি ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট এবং তার নাম ছিল Dr. John S. Pemberton। ১৮৮৬ সালের দিকে John S. Pemberton যখন মাথাব্যথার টনিক তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন তখন নিজের অজান্তে চমকপ্রদ একটি সিরাপ তৈরি করে ফেলেন। আর সেই সিরাপ পরিবর্তিত হতে হতে আজকের কোকা-কোলা হিসেবে আমরা সবাই চিনি। মজার কাহিনী হল – John S. Pemberton তার সিরাপটি নিয়ে যান বিখ্যাত Jacob Pharmacy-তে। সেখানে এই সিরাপটির সাথে ২ কাপ পানি মিশিয়ে অসুস্থ রোগীদের মাঝে বিক্রি শুরু হয। ঘটনাক্রমে একদিন এক অসুস্থ লোক যখন এর অর্ডার করেন, তখন কোকা-কোলার মিশ্রণের সাথে গরম পানির পরিবর্তে সোডা মিশ্রিত কার্বনেটেড পানি মিশানো হয়। আর ফলাফলটি ছিল চমকপ্রদ এক অধ্যায়। গ্রাহকটির এই নতুন পানীয় খুব পছন্দ হয়। সেই লোকটি পানীয়টি সম্পর্কে বলেছিল – “Delicious and Refreshing!”

সর্বপ্রথম এটা ছিল অ্যালকোহল মুক্ত। তারপর তার সঙ্গে ক্যাফেইন এবং কোকেইন মেশানো হয় যেটি সংগৃহীত হত কোলা বাদাম (Cola nut) থেকে।তবে নাম কেন এমন হতে গেল? কোকা-কোলা নামকরনের ধারণাটি আসে ফ্রাঙ্ক রবিন্সনের (Frank Robinson) কাছ থেকে। যেহেতু Cocain এবং Cola nut থেকেই এর মূল উপাদানটি সংগ্রহ করে হয় তাই তিনি এই নাম পছন্দ করেন। Frank Robinson ছিলেন John S Pemberton এর বই রক্ষক। তিনি এই ভেবে এটা করেছিলেন যে, ২ টি “C”-এটির প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারবে খুব সহজেই।

এখন আসুন জেনে নিই, কীভাবে এই চমকপ্রদ সিরাপটি পুরো পৃথিবীতে জনপ্রিয় কোমল পানীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

প্রথম কোকা-কোলা বিক্রি হয় ১৮৮৬ সালের ৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে। এখানেই এর প্রোডাক্ট কোম্পানি “দ্য কোকা-কোলা কোম্পানি” অবস্থিত। এটি প্রথমে বিক্রি হয়েছিল একটি পেটেন্টভুক্ত ওষুধ হিসেবে। প্রতি গ্লাস ৫ সেন্ট দামে। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এরকম বিশ্বাসের কারণে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই এটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাজারজাতকরণের প্রথম বছরে কোকা-কোলা বিক্রয় হয়েছিল মাত্র নয় গ্লাস। কিন্তু বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে কোমল পানীয় হিসেবে প্রতিদিন কোকা-কোলা বিক্রি হয় প্রায় ১৬০ কোটি গ্লাস। পেম্বারটন দাবি করেছিলেন যে, কোকা-কোলা অনেক রোগের প্রতিকার করে। যেমনঃ মরফিন আসক্তি, বদহজম বা অজীর্ণ, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, ধ্বজভঙ্গ প্রভৃতি। একই বছর ২৯ মে আটলান্টা জার্নাল পত্রিকায় পেম্বারটন কোকা-কোলার প্রথম বিজ্ঞাপনটি দেন।

যাইহোক ১ম বছর পেম্বারটন ২৫ গ্যালন সিরাপ বিক্রি করতে সক্ষম হন। তারপর হঠাৎ করে পেম্বারটন যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তিনি Asa Candler নামের আরেক ফার্মাসিস্টের কাছে কোকা-কোলার স্বত্ব বিক্রি করে দেন। তখন সময় ছিল ১৮৯১ সাল এবং মূল্য ছিল মাত্র ২৩০০ ডলার।এরপরেই “আসা গ্রিগস ক্যান্ডেলার” কোকা-কোলাকে ব্যবসায়িকভাবে পুরো পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দেন। তার বাজারজাতকরণ কৌশলেই বিংশ শতক থেকে কোকা-কোলা বিশ্বের কোমল পানীয়ের বাজারে একটি প্রভাবশালী ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী হিসেবে বিরাজ করছে। ১৮৯৪ সালের দিকে কোকা-কোলাকে সর্বপ্রথম বোতলজাত করা হয়। সর্বপ্রথম একে বোতলজাত করে Joseph Biedenharn এর Biedenharn Candy Company। তার পরই কোকা-কোলার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে কোকা-কোলা সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়তে পরিণত হয়। জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এর কিছু অনুকরণও বাজারে আসে। ক্যান আকারে কোকা-কোলা প্রথম বাজারে আসে ১৯৫৫ সালের দিকে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে কোকাকোলার বেশ কিছু কারখানা স্থাপিত হয়।

বর্তমানে “দ্য কোকা-কোলা কোম্পানি”-র দাবী অনুসারে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে কোকা-কোলা বিক্রি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৯৪৪ সালের ২৭ মার্চ থেকে “দ্য কোকা-কোলা কোম্পানি”-র রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক হিসেবে একনামে পরিচিত। এছাড়া এটি ইউরোপ-আমেরিকায় কোলা ও পপ নামেও পরিচিত।

                                                            কোকা-কোলা

কোকা-কোলার উপাদানসমূহঃ

১। কার্বোনেটেড ওয়াটার;
২। চিনি (সুকরোজ বা হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ দেশ বা এলাকার ওপর ভিত্তি করে);
৩। ক্যাফেইন;
৪। ফসফরিক এসিড বা ক্যারামেল (ই১৫০ডি);
৫। প্রাকৃতিক ফ্লেভার বা স্বাদ;

এক ক্যান কোক-এ ৩৯ গ্রাম শর্করা (সম্পূর্ণটাই চিনি থেকে) থাকে। এছাড়া থাকে ৫০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ০ গ্রাম চর্বি, ০ গ্রাম পটাশিয়াম এবং ১৪০ ক্যালরি।

কোকা-কোলা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যঃ 

পেপসি;
আর্ন ব্রু;
আরসি কোলা;
কোলা টার্কা;
জম জম কোলা;
মক্কা কোলা;
ভার্জিন কোলা;
পার্সি কোলা;
কিবলা কোলা;
ইভোকা কোলা;
কর্সিকা কোলা;
ব্রেইঝ কোলা;
আফরি কোলা।

আপনার প্রিয় পানীয়টি কীভাবে আপনার দ্বারে উপস্থিত হল জানতে পেরে যদি কিছুটা হলেও আপনার ভাল লেগে থাকে, তবে আমার তথ্য সংগ্রহের কষ্ঠ কিছুটা হলেও স্বার্থক হবে। অবশ্যই শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানতে সাহায্য করবেন।

তথ্যসূত্রঃ

উইকিপিডিয়া;

http://www.virtualvender.coca-cola.com/ft/index.jsp

http://files.usgwarchives.net/…/muscogee/photos/pemberto134…

http://www.coca-cola.co.uk/ourbrands/default.aspx?id=9

www.coca-cola.com (Official Website)

Article Categories:
বিবিধ