কি কি বস্তু নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব গঠিত? পর্ব-২

by
Oct 17, 2015
273 Views
Comments Off on কি কি বস্তু নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব গঠিত? পর্ব-২
0 0

মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল-মাঝে ॥ আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে ॥ তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে নীরবে একাকী আপন মহিমানিলয়ে ॥ অনন্ত এ দেশকালে, অগণ্য এ দীপ্ত লোকে, তুমি আছ মোরে চাহি– আমি চাহি তোমা-পানে। স্তব্ধ সর্ব কোলাহল, শান্তিমগ্ন চরাচর– এক তুমি, তোমা-মাঝে আমি একা নির্ভয়ে ॥

ডার্ক ম্যাটার বা কৃষ্ণবস্তুঃ

বিজ্ঞানীদের দেওয়া বিভন্ন তত্ত্বনুযায়ী এই ডার্ক ম্যাটার সারা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে কিন্তু শক্তিশালী দূরবীন দিয়েও এই ডার্কম্যাটারকে দেখা সম্ভব না! তাহলে কীভাবে এই ডার্কম্যাটারগুলো আছে বলে আমরা ধরে নিলাম? আসলে ব্যাপারটা হলো বিজ্ঞানীরা অনেক আগেও এ্দের উপস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল না। কিন্তু নক্ষত্র এবং বিভিন্ন গ্যালাক্সিদের উপর এই ডার্কম্যাটার এর প্রভাব দেখেই অদৃশ্য কিছু আছে তা সহজে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

ইভন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্তঃ

এটা হল কৃষ্ণবিবরের সীমানা, যার ভেতরের কোন ঘটনাই বাইরের মহাবিশ্ব থেকে দেখতে পাওয়া যায় না। আমরা সবাই জানি যে, আমাদের পৃথিবী এবং সূর্য কোনটির পক্ষেই ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর-এ পরিণত হবার যোগ্যতা নেই। সাধারণত সূর্যের চেয়ে কয়েকগুণ ভারী নক্ষত্রদেরই ব্ল্যাক হোলে পরিণত্ হবার সুযোগ থাকে। তারপরও যদি ধরে নিই যে আমাদের পৃথিবীটা এক সময় ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে তাহলে তার ঘটানা দিগন্তের আয়তন কেমন হবে?
উত্তর হবে – একটা টেনিস বলের আয়তনের সমান :p এই আয়তন নিয়ে আমরা অন্যান্য ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্তের সাথে ভাব নিতে যায় তাহলে মান সম্মান প্লাস্টিক হয়ে যাবে। 😀

মূলধারার তারাঃ

মেইন স্ট্রিম স্টার বা মূলধারার তারা হলো সেগুলোই যে তারাগুলোর কেন্দ্রে এখনও অনেক আগের তারাদের মত হাইড্রোজেন হিলিয়ামে পরিণত হচ্ছে। চারটা হাইড্রোজেন পরমণু একীভূত হয়ে একটি হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হচ্ছে।

এন্টিম্যাটার বা প্রতিপদার্থঃ

যাকে প্রতিবস্তু বললেও ভুল হবে না। এর আগে প্রতিবস্তু নিয়ে মোটামুটি একটা পোস্ট করা হয়েছে। তারপরও এইবার একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি – এনার্জি থেকেই একই সাথে সমপরিমাণ ম্যাটার এবং এন্টিম্যাটার সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রতি দশ বিলিয়ন কণার মধ্যে একটি ম্যাটার কণা বেশি সৃষ্টি হয় অর্থাৎ একটি ম্যাটার কণা বেঁচে যায়। এজন্যই আমাদের এই বিশ্বজগত ম্যাটার দিয়ে গঠিত, এন্টিম্যাটার দিয়ে নয়। আর মজার বিষয় হল – এই ম্যাটার এবং এন্টিমেটারকে একসাথে মিশালেই এরা পরস্পরকে বিলুপ্ত করে। ফলে বিশাল এনার্জি উৎপন্ন হয় যেমন করে এনার্জি থেকে বস্তু ও প্রতিবস্তু তৈরি হয়।

সৌরকলঙ্কঃ

সৌরকলঙ্ক বা সান স্পট হল সূর্যের আলোকমন্ডলে যে কালো দাগ দেখা যায়। এই কালো দাগ গুলো কীভাবে উৎপন্ন হয়? এগুলো সূর্যের নিজের চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়। এখন যদি আবার বলা হয়, সূর্য চৌম্বক ক্ষেত্র পাবে কই? এর উত্তরে শুধু বলবো, পৃথিবী নিজেই একটি বিরাট চুম্বক তাহলে সূর্য কেন নয়? 🙂

বাদামি বামনঃ

বাদামি বামন বা Blue Dwarf গ্রহ আর তারার মাঝামাঝি ভরের বস্তু। এদের ভর হয় সূর্যের ভরের ০.০৮ গুণ কম। এদের ভেতরে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটতে পারে না, তবে গ্র্যাভিটির কারণে সংকুচিত হয় বলে কিছু শক্তি বিকিরিত করে।

লাল বামনঃ

লাল বামন বা Red Dwarf হল মূলধারার তারা। এরা বেশ হালকা, মিনমিনে এবং বেশ ঠান্ডা এবং গ্র্যাভিটির কারণে সংকুচিত হয় বলে কিছু শক্তি বিকিরিত করে।

সাদা বামনঃ

যে তারাগু্লোকে আমরা সাদা বামন বা White Dwarf বলে চিনি এরা সাধারণত ঘনীভূত তারা, লাল দানবের গা থেকে তার বাইরের স্তর খসে পড়লে তার কেন্দ্রে সাদা বামন দেখা দেয়।

মহাজাগতিক রশ্মিঃ

বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। ইংরেজী- Cosmic Ray।

মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণঃ

আমাদের কাছে সচরাচর CMB নামেই পরিচিত। প্রসারিত করলে দাড়ায় Cosmic Background Radiation। এই রেডিয়েশন বিগ ব্যাঙ এর সময়কালেই সৃষ্টী হয়েছিল। এগুলো এখনও আমাদের টেলিভিশন ডিটেক্টরে ধরা পড়ে। এদের অস্তিত্ব পাওয়া যা মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন ডিটেক্টরে খব ভালভাবেই। 🙂

আশা করি আপনাদের কিছুটা হলে জানাতে পেরেছি। ধন্যবাদ।

Article Categories:
মহাকাশ