ফুটবল খেলার ইতিহাস

by
Nov 11, 2015
301 Views
Comments Off on ফুটবল খেলার ইতিহাস
0 0

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার নাম ফুটবল। বর্তমানে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি লোকের ফুটবল খেলা আগ্রহের সাথে দেখেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ ফুটবল হল – “The greatest show on the earth”। ফুটবল খেলার প্রচলন কবে শুরু আসুন জেনে নিই –

ফুটবল খেলার ইতিহাস খুঁজতে গেলে প্রথম যে ফুটবল ধাঁচের খেলাটির অস্তিত্ত্ব দেখা মেলে তা হল “CUJU (Tsu’ Chu)” উচ্চারণ চুজু এবং নাম দেখেই কিছুটা বুঝা যায়, সেটা আর কোন দেশে নয় বরং চীন দেশেই আজ থেকে অনেক বছর আগে প্রায় খ্রীস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে। Cuju ছিল একটা সাধারণ বল খেলা যার উদ্দেশ্য ছিল, কয়েক মিটার দূরের একটি কাপড়ের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে একটি চামড়ার বলকে প্রবেশ করানো। এই খেলাটি মূলত মিলিটারি ট্রেনিং এর অংশ হিসেবে প্রচলিত ছিল কিন্তু খুব দ্রুত এই খেলাটির জনপ্রিয়তা সমাজের উচ্চশ্রেণীদের মন জয় করে নেয়। পরবর্তীতে এই খেলা অন্যান্য জাতিস্বত্তার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে জাপানিদের “কেমারি” নামের এক ধরণের বল খেলার প্রতি আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে যায়। এই খেলায় জাপানীরা বৃত্তের মত গোল হয়ে দাঁড়িয়ে একটি গোলাকার বলকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করত এবং যতক্ষণ সম্ভব বলটি শূণ্যে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করত। প্রাচীন ফুটবল ধাঁচের খেলার আরও প্রমাণ মিলে গ্রীস এবং ইটালিতে। ফুটবল ধাঁচের এই খেলাগুলো নবম শতাব্দীর আগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল পৃথিবী বিভিন্ন জায়গা জুড়ে এবং নবম শতাব্দীতে এসেই আধুনিক ফুটবলের রুপ নিতে শুরু করে। নবম এবং তেরোশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ফ্রান্সে “মেডিবল” বা “মব ফুটবল” নামে একধরনের খেলার প্রচলন ছিল। মব ফুটবলে একটি গোলাকার চামড়ার বলকে নিজের কাছে টেনে নিতে পূরো গ্রামবাসী প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তো। এই বল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে কাউকে হত্যা করাও অনুমোদিত ছিল। কিন্তু দ্রুত এই খেলাটিকে অনেকে অপ্রীতিকর খেলা হিসেবে আখ্যায়িত করে ত্যগ করতে লাগল এবং ১৩১৪ সালে এসে রাজা দ্বিতীয় এডওয়ার্ড খেলাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গোপনে খেলাটির প্রচলন ছিল। পরে ষোড়শ শতাব্দীতে এসে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলে ফুটবল খেলার প্রচলন শুরু হয় যা ছিলে আগের প্রচলিত মব ফুটবলের তুলনায় অনেক শৃঙ্খলিত এবং কিছু নিয়ম-নীতির প্রচলনও শুরু হয় সে সময়ে। যেমন – বল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শুধু মাত্র পায়ের ব্যবহার, নির্দিষ্ট গোলকিপার, খেলায় রেফারির সিদ্ধান্ত ইত্যাদির প্রচলন শুরু হয় সে সময়েই। ফলে ফুটবল খুব দ্রুত একটা বিশৃঙ্খল খেলা থেকে সুশৃঙ্খল খেলায় পরিণত হতে শুরু করে। কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দিল যখন প্রত্যেক স্কুল নিজেদের মত করে নিয়ম বানিয়ে নিজেদের স্টাইলে খেলা শুরু করে। যেমন বলা যায় সেখানকার রাগবি স্কুলগুলোতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আক্রমণ করার জন্য অনেক ভয়ানক নিয়ম প্রচলিত ছিল এবং এবং এটিই মূলত পরবর্তীতে রাগবি ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করে। তাই প্রত্যেক স্কুলের খেলার নিয়মগুলোকে সমঝোতার মাধ্যমে একত্রিত করে নতুন গ্রহণযোগ্য ফুটবল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সর্ব প্রথম ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যাল্য়ে ১৮৪৮ সালে ফুটবলের নিয়ম লিপিবদ্ধ করা হয়। এই লিপিবদ্ধ একীভূত নিয়মের অধীনে ফুটবলের প্রচলন করতে ১৮৬৩ সালে লন্ডলে একটা ফুটবল এসোসিয়েশন করা হয়। প্রচন্ড গতিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় প্রয়োজন দেখা দিল একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা গঠনের এবং শেষ পর্যন্ত ১৯০৪ সালে ফ্রান্সে “ফিফা” গঠিত হয় যা আজ অবধি ফুটবলের নিয়ম কানুন থেকে শুরু করে সব কিছুর দেখাভার পালন করে আসছে এই সংস্থাটি। এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে। কেন আমেরিকা বা কানাডার মত দেশে ফুটবল খেলাটিকে “ফুটবল” বলার চেয়ে বরং “সকার” বলতে পীড়াপীড়ি করা হয় যেখানে হাত দিয়েই বল খেলা হয়ে থাকে? আসলে Socker শব্দটি কিভাবে আসল তা জানলে আপনি হয়তো তেমন অবাক হবেন না। এই শব্দটি আসলে ইংল্যান্ডের ভিন্ন ভার্সনে খেলা রাগবি খেলাটিকে ফুটবল এসোসিয়েশন থেকে আলাদা করে বুঝানোর জন্যই প্রত্যেক শব্দের পেছনে অনুসর্গ যোগ করে সংক্ষেপে রাগবিকে Rugger এবং ফুটবল এসোসিয়েশনকে Footer বা Socker নামে আখ্যায়িত করা হয়। Socker পরবর্তীতে Soccer এ পরিণত হয়।

শেষে একটি মজার তথ্য দিয়ে শেষ করি – এই পর্যন্ত প্রফেশনাল ফুটবল খেলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্কোরলাইনটি করা হয় ২০০২ সালে মাদাগাস্কারে এবং খেলাটি ১৪৯ -০ স্কোরলাইনে শেষ হয়। এত বড় স্কোরলাইন হওয়ার পেছনে অবশ্য কারণ আছে এবং সেটিও বেশ মজার। পরাজিত দলের খেলোয়াড়েরা রেফারির সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানাতে নিজেদের গোলে নিজেরাই শট নিতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত গোল সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় ১৪৯!


তথ্যসূত্রঃ ফিফা

 

Article Categories:
ফুটবল