ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ১০টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

by
Jul 13, 2017
219 Views
Comments Off on ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ১০টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
0 0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমন্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে। ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। কলা অনুষদের অধীনে ছিল ৮টি বিভাগ: সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফার্সি ও উর্দু, দর্শন এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি; বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ছিল পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত; আইন অনুষদের অধীনে ছিল শুধুমাত্র আইন বিভাগ। ৩টি অনুষদের ৮৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮৬ জন ঢাকা (শহীদুল্লাহ) হলে, ৩১৩ জন জগন্নাথ হলে এবং ১৭৮ জন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ ইউনুস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য! 


১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ এর পরে প্রথম বাঙালি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যার আহমেদ ফজলুর রহমান সংক্ষেপে স্যার এ.এফ রহমান। ১৯৩৪ সালে তিনি এ দায়িত্বে নিযুক্ত হন।

 

২। মধুর ক্যান্টিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুপরিচিত জায়গা। বিভিন্ন সময় ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে এটি। এই মধুর ক্যান্টিনের নামকরণ হয়েছে মধুসূদন দে এর নামানুসারে।

 

৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন  লীলা নাগ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এম.এ. ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীও। ইংরেজী বিভাগ থেকে ১৯২৩ সালে তিনি এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

নীলা নাগ


৪।  ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইন্সটিটিউট। এর নাম – শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট।

 

৫।  ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত ছাত্ররা প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনা ঘটেছিল বর্তমান কার্জন হল নামক জায়গাটিতে।

 

৬। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলো তিনটি ছাত্রাবাস – ঢাকা হল, জগন্নাথ হল ও মুসলিম হল। পরবর্তীতে ঢাকা ও মুসলিম হলের নামে পরিবর্তন আনা হয়। এদের বর্তমান নাম হচ্ছে যথাক্রমে শহীদুল্লাহ হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল।

 

৭। ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড লিটন।

 

৮।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদ সৃষ্টি করা হয়।

 

৯। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মনোগ্রামের শ্লোগান ছিল-  ‘Truth shall Prevail’ (১৯২১-১৯৫২). পরবর্তী সময়ে এ মনোগ্রাম তিনবার পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত প্রথম মনোগ্রামে শ্লোগান ছিল আরবিতে – ‘ইকরা বিস্মে রাবিবকাল লাজি খালাক্ক’ (১৯৫২-৭২), দ্বিতীয় মনোগ্রামে ‘শিক্ষাই আলো’ (১৯৭২-৭৩) এবং ‘শিক্ষাই আলো’ লেখা সম্বলিত নতুন ডিজাইনের তৃতীয় মনোগ্রাম অদ্যাবধি ব্যবহার করা হচ্ছে।

Dhaka University logo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর বিবর্তন

 


১০। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কতিপয় হিন্দু নেতার ধারণা অনুযায়ী হলেও পরবর্তীতে এটি শুধুই মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় নি, বরং দেশ বিভাগের আগে এখানে ৮০% ছাত্র-শিক্ষকই ছিলেন হিন্দু।

 


তথ্যসূত্রঃ  ১। বাঙলা পেডিয়া; ২। উইকিপেডিয়া; ৩। কুইজার্ডস  ডট কো