সেরা ১০টি সিক্রেট সোসাইটি

by
Jul 13, 2017
186 Views
Comments Off on সেরা ১০টি সিক্রেট সোসাইটি
0 0

ইতিহাসের পথ ধরে আজ পর্যন্ত অনেকগুলি সিক্রেট সোসাইটি এবং তাদের সম্পর্কে নানান ধরণের গল্প গুঁজব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সিক্রেট সোসাইটির মধ্যে থেকে সেরা ১০টি নিয়েই এই লিস্ট।

১। স্কাল এন্ড বোনস

আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সোসাইটিটি প্রকৃতপক্ষে ব্রাডারহুড অফ ডেথ নামে পরিচিত। ছাত্রদের অন্যতম পুরাতন এই সিক্রেট সোসাইটিটি ১৮৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যার সদস্যপদ সেরাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সোসাইটির সদস্যরা সপ্তাহের প্রত্যেক বৃহস্পতিবার আর রবিবারে তাঁদের দেওয়া “Tomb” নামক দালানে মিলিত হতেন। ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত সদস্যদের নাম গোপন থাকলেও তাদের আনুষ্ঠানিকতা থেমে থাকেনি। ইয়েলের ছাত্র থাকাকালীন সিনিয়র আর জুনিয়র বুশ দুজনেই এর সদস্য ছিলেন। তাঁরা বাদেও অন্যান্য যেসকল সদস্য ছিলেন তাঁরা সবাই কম বেশি নাম কুড়িয়েছেন।

Members of Skull and Bones

স্কাল এন্ড বোনসের সদস্য (জর্জ বুশ ঘড়ির বাম পাশে), ছবিঃ documentarytube.com

২। ফ্রিম্যাসনরি

১৭১৭ সালে গঠিত এই গ্র্যান্ড ম্যাসনিক লজটি হচ্ছে চারটি ছোট গ্রুপের সামস্তিক রুপ। সদস্যদের সদস্যপদের লেভেল প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রি পর্যন্ত থাকলেও ১৭৫০ সালে তা বর্ধিত করে তৃতীয় ডিগ্রিতে করাতে গেলে গ্রউপে ভাঙন শুরু হয়ে যায়। যদি কেউ তৃতীয় ডিগ্রিতে পৌঁছাত তাহলে তাদেরকে মাস্টার ম্যাসন নামে পরিচিতি পেতেন। ম্যাসনরা তাঁদের নিজস্ব ঢঙে আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করতেন যার মধ্যে স্থাপত্যের অনেকগুলি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ঈশ্বরকে তাঁরা “দ্য গ্রেট আর্কিটেক্ট অফ দ্য ইউনিভার্স” নামে অভিহিত করতেন। নতুন সদস্যদের সদস্যপদ পেতে হলে পুরাতন সদস্যদের সুপারিশ লাগতো এমনকি অনেক সময় তিন তিন বারও সুপারিশ লেগে যেতো।

Freemasons meeting

ফ্রিম্যাসনদের মিটিং, ছবিঃ thesun.co.uk

৩। রসিক্রুসিয়ান্স

সতেরশ শতাব্দীর সময়কালে এটি ছিল ইউরোপের একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। মূলত ১৬০০ শতাব্দীর পর যে তিনটি নথি প্রকাশ পায় তার ফলশ্রুতিতেই এই সোসাইটির সৃষ্টি। তার মধ্যে প্রথমটি ছিল রহস্যময় কেমিস্টের দুনিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে এক গোপন জ্ঞান জড়ো করা। দ্বিতীয়টি ছিল রাজনৈতিক আর বুদ্ধিভিত্তিক উপায়ে ইউরোপের সরূপ বদলানো। তৃতীয়টি ছিল রহস্যময় কেমিস্টের রাজা-রানীর কেমিক্যাল বিবাহে যোগদানের বর্ণনা। যদিও বর্তমান সদস্যরা এই গ্রউপের গঠন তারও আগে বলে দাবী করে আসতেছে। আজকের এই সময়ে দুটি বড় বড় গ্রুপ রয়েছে কিন্তু সবাই নিজেদেরকে আসল হিসেবেই জাহির করার কাজ করে যাচ্ছে। দু’গ্রউপের একটি হচ্ছে খ্রিস্টিয়ানিটি আর রসিক্রুসিয়ান্সের মিশ্রণ অপরটি হচ্ছে সেমি-ম্যাসনিক।

Rosicrucians

রস ক্রস-এর মন্দির, ছবিঃ উইকিপিডিয়া

৪। অর্ডো টেম্পলি ওরিয়েন্টিস 

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভ্রাতৃসুলভ আর ধর্মীয় সংঘটন হিসেবে আত্ত্ব প্রকাশ হয়। ইংলিশ লেখক অ্যালেস্টার ক্রউলি এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন। যদিও ম্যাসনরির উপর ভিত্তি করে এটির উত্থান কিন্তু অ্যালেস্টার ক্রউলি তাঁর নিজের ধর্মীয় কাঠামো “Thelema” প্রতিষ্ঠা করান। পুরো বিশ্বজুড়ে ৩০০০ এর অধিক সদস্য রয়েছে বলে দাবী তোলা হয়। এদের আচার অনুষ্ঠানগুলিতে কুমারী যাজক, শিশু এবং যাজক ব্যবহার করা হয়। মিশরের প্রাচীন ঈশ্বর, শয়তানদের এরা স্মরণ করে এদের পূজা অর্চনা করে আর এক পর্যায়ে যাজকরা উলঙ্গ হয়ে আচার অনুষ্ঠানগুলি সম্পন্ন করে।

Ordo Templis Orientis

অর্ডো টেম্পলি ওরিয়েন্টিস-এর প্রতীক, ছবিঃ oto-pl.org

৫। হারমেটিক অর্ডার অফ গোল্ডেন ডন

ফ্রিম্যাসনের সাবেক তিন সদস্যদের হাত ধরেই এটির সৃষ্টি। অতিপ্রাকৃত, অধ্যাত্মতত্ত্ব এবং অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পড়াশোনা করার নিমিত্তে উনিশ শতকের শেষের দিকে আর বিংশ শতকের শুরুর দিকে গোল্ডেন ডনের সূচনা। গোল্ডেন ডনের বিশ্বাসের ধারণাটি খ্রিস্টিয়ান অতীন্দ্রিবাদ, কাবালাহ্, হেরমেটিসিজম, প্রাচীন মিশরীয় ধর্মগুলি, ফ্রিম্যাসনরি, অ্যালকেমি, দিব্যজ্ঞান, যাদুবিদ্যা এবং রেনেসাঁর লেখনীর বিশাল প্রভাব রয়েছে।

Golden Dawn cross

হারমেটিক অর্ডার অফ গোল্ডেন ডন ক্রস, ছবিঃ crystalinks.com

৬। দ্য নাইট টেম্পলার

নাইট টেম্পলারের পুরো নামটি হচ্ছে “দ্য ইউনাইটেড রিলিজিয়াস, মিলিটারি এন্ড মোনাস্তিক অর্ডারস অফ দ্য টেম্পল এন্ড অফ দ্য সেইন্ট জন অফ জেরুজালেম, প্যালেস্টাইন, রোডস এন্ড মাল্টা”। যদিও এটির সাথে মূল টেম্পলারের কোন সম্পর্ক নেই তবে এই সামরিক গ্রুপটি দ্বাদশ শতকের সময়ে গঠন করা হয়। গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি মধ্যযুগীয় এই গ্রুপের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগটা অস্বীকার করলেও ধারণা আর প্রতীকগুলি ধারণ করে থাকে। গ্রুপটির সদস্য হওয়ার জন্যে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই খ্রিস্টিয়ান মাস্টার ম্যাসন হতে হয়।

Knights Templar's sword

নাইট টেম্পলারের তলোয়ার, ছবিঃ listverse.com

৭। ইলুমিনাতি

ব্যাভারিয়াতে ১৭৭৬ সালের মে মাসের ১ তারিখে অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট ইলুমিনাতি নামের এই গুপ্ত সোসাইটিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ইলুমিনাতির অর্থ হচ্ছে যারা বিশেষভাবে আলোকিত বা যারা জ্ঞানার্জনের দাবী করে। অনেকে ধারণা করেন যে ইলুমিনাতি সৃষ্টির পিছনে ফ্রিম্যাসনের বিরাট ভুমিকা রয়েছে। ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এদের ষড়যন্ত্রকারীর চোখে দেখে থাকেন। এদের ব্যাপারে নানান জনের নানান মত লক্ষ্য করা যায় তার মধ্যে একটি হলো এরা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলার নীল নকশা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্মীয় গোঁড়ামির ভেতর থেকে বের হয়ে আসাতাই এদের অন্যতম এক সংগ্রাম। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন ইলুমিনাতি এখনো তাঁদের কাজ চালিয়ে  যাচ্ছেন সাথে পুরো বিশ্বের সরকার প্রধানদের কাজগুলিতে প্রভাব বিস্তার করছেন।

Illuminati

ইলুমিনাতি লোগো, ছবিঃ twitter

৮। বিল্ডারবার্গ গ্রুপ

এই গ্রুপটি কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির অন্যান্য গ্রুপদের থেকে যেহেতু এদের কোন অফিসিয়াল সদস্য নেই। বার্ষিক এক গোপন সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেয়। সম্মেলনে আলোচিত বিষয়গুলি গোপন রাখা হয়। শুধুমাত্র আমন্ত্রিতরা এই সম্মেলনে আসার সুযোগ পায়।  ১৯৫৪ সালের মে মাসে নেদারল্যান্ডের বিল্ডারবার্গ হোটেলে সর্ব প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দুই-তৃতীয়াংশ আসেন ইউরোপ থেকে আর বাকীরা আসেন উত্তর আমেরিকা থেকে। তবে এই গ্রুপটি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক বিরাজমান।

Bilderberg Hotel

বিল্ডারবার্গ হোটেল, ছবিঃ উইকিপিডিয়া

৯। প্রায়োরি অফ সায়োন

ড্যান ব্রাউনের দা ভিঞ্চি কোড প্রকাশের পর থেকেই প্রায়োরি অফ সায়োন নিয়ে কৌতূহল সবার মাঝে বেড়ে উঠে। দুর্ভাগ্যবশত এটি একটি কাল্পনিক, অনেকই হয়তোবা এই গ্রুপটিতে যোগদানের কথাও ভেবেছিল! ১৯৫৬ সালে ফান্সের সিংহাসনের দাবীদারের বানানো একটি ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। অনেক মানুষ এটির কার্যক্রম এখনো চলমান বলে বিশ্বাসী। প্রায়োরি অফ সায়োনের প্রধানেরা গ্র্যান্ড মাস্টার নামে পরিচিতি পেয়েছেন। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, ভিক্টর হুগো, আইজ্যাক নিউটনদের মত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আর সাহিত্যিকদের প্রায়োরি অফ সায়োনের গ্র্যান্ড মাস্টার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

The Priory of Sion

প্রায়োরি অফ সায়োন-এর প্রতীক, ছবিঃ pinterest.com

১০। অপোস দেই

ক্যাটলিক গির্জার একটি সংস্থা যার প্রধান শর্ত হচ্ছে ক্যাটলিক বিশ্বাস যেটাকে সবাই পবিত্রতা হিসেবে মেনে থাকে। এদের সহকারী অবিবাহিত ব্যক্তিরা বিশেষ কেন্দ্রে বাস করা শুরু করে আর সহযোগী অবিবাহিতরা প্রাইভেট বাসায় বসাবাস করে আসচ্ছে।  ১৯২৮ সালে রোমান ক্যাটলিক যাজক দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠা লাভের পর পোপ পায়াস ৭ম অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। ড্যান ব্রাউনের দা ভিঞ্চি কোড প্রকাশের পর দাবী করা হয় যে প্রায়োরি অফ সায়োনকে পরাজিত করার জন্যেই গির্জার এই গুপ্ত সংস্থাটি তৈরি করা হয়। যেহেতু ধর্মীয় ব্যাপার সংশ্লিষ্ট তাই বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। পরবর্তীতে ক্যাটলিক চার্জগুলি এ ধরণের সিক্রেট সোসাইটি গুলি নিষিদ্ধ করে দেয়।

Opus Dei

অপোস দেই-এর প্রতীক, ছবিঃ উইকিপিডিয়া


তথ্যসূত্রঃ লিস্টভার্স, উইকিপিডিয়া।

Article Categories:
সেরা দশ