স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

by
Jul 16, 2017
341 Views
Comments Off on স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
0 0

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পারমাণবিক ভয়াবহতা বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতির ধারা। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। প্রত্যেকেই মুখিয়ে ছিল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের দিকে। ফলে তৈরি হয় এক ধরনের চাপা রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই অবস্থা ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ব্যপ্ত ছিল। এই বিষয়টি বহুল পরিচিতি পায় ‘Cold War’ বা স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে। এই ‘Cold War’ বা স্নায়ুযুদ্ধ টার্মটি কীভাবে উৎপন্ন হলো আসুন সংক্ষেপে এই ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নিই।

প্রথমে নিচের ছবিটি দেখে নিন –

Cold war

স্নায়ুযুদ্ধ; ছবি কার্টেসী- কুইজার্ডস ডট কো

১। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বে এবং পরে পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এদের মধ্যে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, হাঙ্গেরি, পশ্চিম জার্মানী ইত্যাদি রাষ্ট্রসমূহ যা ইংরেজিতে ‘ইস্টার্ন ব্লক’ নামে পরিচিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুধাবন করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়া তার সমস্ত শক্তি ইউরোপের দিকে কেন্দ্রীভূত করতে পারে। এ আশংকা থেকে মার্কিনীরা রাশিয়ার প্রতি আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে থাকে যা স্নায়ুযুদ্ধের সৃষ্টি করে। তাই গঠিত হয় ন্যাটো যেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল ২৮ টি দেশ যা মূলত যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ইত্যাদি দেশ; এই ব্লকটিই হল ‘ওয়েস্টার্ন ব্লক’।


২। সোভিয়েত ইউনিয়ন একদিকে এটম বোমা প্রস্তুত করার জন্য গবেষণা চালায়, অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপের সাথে নিবিড় সম্পর্ক করে যার ফলশ্রুতিতে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়।


৩। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তাই অন্যান্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশসুমূহ থেকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরে যাওয়ায় তারা রাজনৈতিকভাবে শূন্য হয়ে পড়ে। ৩য় বিশ্বের দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া নিজেদের স্বার্থের অনুকুলে আনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয় যা স্নায়ুযুদ্ধের কারণ।


৪। আমেরিকা ১৯৪৫ সালে এবং রাশিয়া ১৯৪৯ সালে আনবিক শক্তির অধিকারী হয়। যেহেতু টেকনোলোজি মানুষের চিন্তা ধারাকে উচ্চাকাঙ্খে প্রবাহিত করে- ফলে ঘোষিত যুদ্ধ না করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে যা স্নায়ুযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


৫। অধ্যাপক ফ্রাঙ্কেল এর মতে, “ঠাণ্ডা যুদ্ধ বলতে সাম্যবাদ ও গণতান্ত্রিক মতাদর্শ এবং তাদের প্রবক্তা রাশিয়া ও আমেরিকার বিরোধের সাথে জড়িত সকল ঘটনাকে বুঝায়।”


৬। ১৯৬১ সালের ৪ জুন ইস্টার্ন ব্লক ন্যাটোকে পশ্চিম বার্লিন থেকে সকল ওয়েস্টার্ন ফোর্স সরিয়ে নেওয়ার জন্য আল্টিমেটাম যা ন্যাটোর কাছে ছিল জার্মানিকে ইস্টার্ন ব্লকের কাছে হস্তান্তর করার মত। ফলে ওয়েস্টার্ন ব্লক প্যারিসে এক জুরুরী সভার আয়োজন করে এবং সিদ্ধান্ত হয় এর প্রতিরোধ করা হবে। ভাগ্য ভাল ইস্টার্ন ব্লক আল্টিমেটাম কার্যকর করে নি বরঞ্চ তারা বার্লিন দেয়াল তুলে দিল। জার্মানী ভাগ হল পূর্ব ও পশ্চিমে। এই দেয়াল অবশেষে ভেঙে যায় ১৯৮৯ সালে।


৭। ১৯৪৫-৪৭ সালে তুরস্কের ঘটনাবলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের তিক্ততা শুরু হয়, যা স্নায়ুযুদ্ধের লক্ষণ ছিল।


৮। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি গ্রিস দখল করলে ইংরেজ বাহিনী তা মুক্ত করে, কিন্তু ইংরেজ বাহিনী গ্রীসের ফ্যাসিবাদী বিরোধী জনগণের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে যা স্নায়ুযুদ্ধের কারন।


৯। কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধ শব্দতিকে জনপ্রিয় করেন মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ১৯৪৭ সালে।


১০। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কথা চলছিল চাঁদে অভিযানের ব্যপারে। নিকিতা কুর্শেভকে প্রায় ম্যানেজ করা হয়েছিল চাঁদের অভিযানের প্ল্যান গ্রহণে কিন্তু প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে গুপ্ত হত্যা করা হয়। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জনসনকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর বিশ্বাস করে নি। ফলে এই প্ল্যান ভেস্তে যেতে বাধ্য হয়।


 

এক নজরে Cold War বা স্নায়ুযুদ্ধ

মূল উৎপত্তি

নিশ্চিত কোন তথ্য নেই। তবে হিটলারের কিছু নীতি বর্ণনা করার জন্য সীমিতভাবে এ শব্দের ব্যবহার ছিলো।

প্রথম ব্যবহার

কে: বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েল

কোথায়: “You and the Atomic Bomb” নামক রচনায়

কখন: ১৯৪৫ সালের ১৯ অক্টোবর

কেন: পারমাণবিক যুগে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝাতে


 

প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার

কে: মার্কিন রাজনৈতিক উপদেষ্টা বার্নার্ড বারুখ

কোথায়: সাউথ ক্যারোলাইনা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (South Carolina House of Representatives) দেয়া এক বক্তব্যে

কখন: ১৯৪৭ সালের ১৬ এপ্রিল

কেন: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বোঝানোর জন্য

 


তথ্যসূত্রঃ prezi.com, কুইজার্ডস ডট কো, ইস্টিশন ব্লগ সাইট।